সহিহ বুখারি|রোজা অধ্যায়|

সহিহ বুখারি|অনুবাদ:মুহাম্মদ শামসুল হক সিদ্দিক|

রমজানের রোজা ফরজ

আল্লাহ তাআলা বলেন:

{‏يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا كُتِبَ عَلَيْكُمُ الصِّيَامُ كَمَا كُتِبَ عَلَى الَّذِينَ مِنْ قَبْلِكُمْ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ‏}‏‏.

‘হে মুমিনগণ, তোমাদের উপর রোজা লিখে-দেয়া হয়েছে যেমনিভাবে লিখে-দেয়া হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের উপর। আশা করা যায় তোমরা মুত্তাকি হবে’(সূরা  আল বাকারা:১৮৩)।

عَنْ طَلْحَةَ بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ، أَنَّ أَعْرَابِيًّا، جَاءَ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ثَائِرَ الرَّأْسِ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَخْبِرْنِي مَاذَا فَرَضَ اللَّهُ عَلَىَّ مِنَ الصَّلاَةِ فَقَالَ ‏”‏ الصَّلَوَاتِ الْخَمْسَ، إِلاَّ أَنْ تَطَّوَّعَ شَيْئًا ‏”‏‏.‏ فَقَالَ أَخْبِرْنِي مَا فَرَضَ اللَّهُ عَلَىَّ مِنَ الصِّيَامِ فَقَالَ ‏”‏ شَهْرَ رَمَضَانَ، إِلاَّ أَنْ تَطَّوَّعَ شَيْئًا ‏”‏‏.‏ فَقَالَ أَخْبِرْنِي بِمَا فَرَضَ اللَّهُ عَلَىَّ مِنَ الزَّكَاةِ فَقَالَ فَأَخْبَرَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم شَرَائِعَ الإِسْلاَمِ‏.‏ قَالَ وَالَّذِي أَكْرَمَكَ لاَ أَتَطَوَّعُ شَيْئًا، وَلاَ أَنْقُصُ مِمَّا فَرَضَ اللَّهُ عَلَىَّ شَيْئًا‏.‏ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏”‏ أَفْلَحَ إِنْ صَدَقَ، أَوْ دَخَلَ الْجَنَّةَ إِنْ صَدَقَ ‏”‏‏.‏

তালহা ইবনে উবায়দুল্লাহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, জনৈক বিক্ষিপ্তকেশি বেদুঈন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এলেন, ও বললেন,‌’ য়্যা রাসূলাল্লাহ‍! আমাকে বলুন, আল্লাহ তাআলা আমার উপর নামাজের  কি ফরজ করেছেন? তিনি বললেন, ‘পাঁচ নামাজ’। তবে যদি তুমি স্বেচ্ছায় নফল পড়, তবে তা আলাদা। লোকটি বলল, ‘আমাকে বলুন, আল্লাহ তাআলা আমার উপর রোজার কি ফরজ করেছেন? তিনি বললেন, ‘রমজান মাস’। তবে যদি তুমি নফল রোজা কর, তবে তার কথা আলাদা। লোকটি বলল,’আমাকে বলুন, আল্লাহ তাআলা আমার উপর যাকাতের কি ফরজ করেছেন? বর্ণনাকারী বলেন, ‘অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে ইসলামের বিধিবিধানসমূহ জানালেন।লোকটি বলল, ‘সেই সত্ত্বার কসম যিনি আপনাকে সম্মানিত করেছেন। আমি কোনো নফল আদায় করব না, আর আল্লাহ আমার উপর যা ফরজ করেছেন, তাতে কোনো ত্রুটি করব না। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘ সে যদি সত্য বলে থাকে তবে সে সফল, অথবা তিনি বললেন,’  যদি সে সত্য বলে থাকে, তাহলে জান্নাতে প্রবেশ করবে’।

Posted in Uncategorized | Leave a comment

Twitter Weekly Updates for 2010-08-21

  • Even in the holy month of ramadan you can work restlessly. some times you can work in this month than others #
  • Ramadan Muarak #
Posted in Uncategorized | Leave a comment

রমজানের কবিতা

আল্লাহ থেকে দূরে, পাপে-অন্যায়ে
কালের শুণ্য গর্ভে লীন হয়ে হয়ে
গোনাহের কালিমায় ডুবন্ত হৃদয়ে
খসে গেছে যার জীবন থেকে অজস্র ক্ষণ
রমজান তার দরজায়, নির্বাক দাঁড়িয়ে
রহমত, মাগফিরাত, মুক্তির শত আহ্বান নিয়ে।

Posted in Uncategorized | Leave a comment

মাওলানা আবু সাঈদ মুহাম্মদ ওমর আলী সাহেবের ইন্তেকাল

গতকাল রাতে মাওলানা আবু সাঈদ মুহাম্মদ ওমর আলী সাহেব ইন্তেকাল করেছেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।
ইসলামিক ফাউন্ডেশের বড় অর্জন ইসলামী বিশ্বকোষ মারহুমের সরাসরি তত্ত্বাবধানে সম্পন্ন হয়েছে। উপমহাদেশের প্রখ্যাত ইসলামি চিন্তাবিদ মাওলানা আবুল হাসান আলী নাদভী রা. এর তিনি ছিলেন পরম ভক্ত। আমার কাছে মারহুমের সর্বোচ্চ অর্জন হলো, অমুসলিমদের মাঝে ইসলামপ্রচারের কার্যক্রমকে, বাংলাদেশের পরিমণ্ডলে, বহুগুণে এগিয়ে দেয়া। বিষয়টিকে তিনি এতই গুরুত্ব দিতেন যে কয়েকদিন আগেও ময়মনসিংহের দায়ী প্রশিক্ষন কোর্সে অসুস্থ শরীর নিয়েই অংশগ্রহণ করেছিলেন ।
তিনি চলে গিয়ে আমাদের মাথায় বিশাল এক দায়িত্ব চাপিয়ে দিলেন।
মারহুমকে আমি প্রথম দেখেছিলাম ময়মনসিংহের জামিয়া ইসলামিয়ায়। আবুল হাসান আলী নাদভী রা. এর সফর সঙ্গী হিসেবে গিয়েছেলেন। তিনিই সর্বপ্রথম নাদভী রা. গ্রন্তগুলো বাংলা ভাষায় অনুবাদ শুরু করেন। নাদভী রা. এর নবীয়ে রাহমত অনুবাদ করে তিনি প্রবল মানসিক প্রশান্তি অনুভব করেছিলেন।
ওমর আলী সাহেবের লেখালেখি সম্পর্কে আমি বেশি কিছু বলতে পারব না। কেননা আমার সাথে তাঁর সম্পর্কটা ছিল দাওয়াকেন্দ্রিক। আমার বিবেচনায় মারহুমের দাওয়া-মিশনকে এগিয়ে নেয়ার জন্য নানা মুখী কার্যক্রম হাতে নেয়া উচিত। একটা স্মারক গ্রন্থ বের করার উদ্যোগ নিলে ভালো হয়।
আল্লাহ তাআলা মরহুমকে জান্নাতুল ফেরদাউস নসীব করুন। তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারকে ধৈর্যধারণের তাওফীক দান করুন। আমীন।

http://www.islam.com.bd/blog

Posted in news | Tagged | Leave a comment

মসজিদের মিম্বার

মসজিদের মিম্বার খুতবা-খেতাবত, ওয়াজ ও বক্তৃতার প্রতীক। আর খুতবা-খেতাবত – অতীতে যেমন বর্তমানেও তেমনি – উপস্থিত থেকেছে মুসলিম উম্মাহর সুমহান সৌধে একটি অবিচ্ছেদ্য- মৌল উপকরণ হিসেবে। এটি একটি সমুজ্জ্বল আলোকবর্তিকা যা জাগিয়ে তোলে বিস্মৃত- বেখবর হৃদয়কে, পথের দিশা দেয় কিংকর্তব্যবিমূঢ়দেরকে, শাণিত করে হিম্মত ও প্রেরণাকে। যারা দীনকে ধরে আছে মজবুত কব্জায় খুতবা- খেতাবত তাদের জন্য শান্তনার আশ্রয়, যাদের হৃদয় স্পন্দিত তাদের দৃঢ়ীকরণের একটি মাধ্যম। এটা হলো ওয়াজ-বক্তৃতা ও বক্তার মঞ্চ। দাওয়াতের এক ঝাণ্ডা। নসীহত,উপদেশ,দিকনির্দেশনা ও বীজবপনের সুডৌল এক যন্ত্র। এর মাধ্যমে জাহেল-মূর্খরা শেখে, ভুলে-যাওয়া ব্যক্তিরা স্মরণ করে, ফতোয়াপ্রার্থীরা ফতোয়ার সন্ধান পায়। খুতবা- খেতাবতের পথ ধরেই খতীবগণ বিচরণ করেন মুসলিম উম্মাহর নানা সমস্যার অলিগলিতে, সমাধান বের করেন নিত্যনতুন মাসআলা মাসায়েল ও আধুনিক সব সমস্যার। খুতবা- খেতাবতের মাধ্যমেই খতীবগণ দিয়ে থাকেন ভালো কাজের প্রেরণা, অথবা উচ্চারণ করেন মন্দ কাজ থেকে বিরত হওয়ার হুঁশিয়ার-বাণী। কাহিনি বর্ণনা, উপমা পেশ, ইতিহাসের বাস্তবতা ও শিক্ষা উপস্থাপন, বিবেক-বুদ্ধিকে আন্দোলিতকরণ ইত্যাদির সংমিশ্রণে খতীবগণ পালন করে যান তাদের ঐতিহাসিক দায়িত্ব ; যাতে নবায়ন করে নেয় প্রতিটি ব্যক্তি তার ঈমান- বিশ্বাস। পূর্ণাঙ্গ করে নেয় এ ক্ষেত্রের অপূর্ণতা। আর যারা দূরে, গোনাহে লিপ্ত তারা আসে ফিরে, তাওবা করে। ফিরে আসে যারা দিকভ্রান্ত, স্থানচ্যুত অথবা গাফলতের নেশাগ্রস্ততায় চেতনাশূন্য তারাও। স্বাধীনতা খোঁজে পায় প্রবৃত্তিপূজারী প্রবৃত্তিপূজার শৃঙ্খল থেকে। আর এসবের ফলস্বরূপ মানবাত্মা ফিরে পায় তার স্বচ্ছতা, মিলন ঘটে হৃদয়ে-হৃদয়ে , দাঁড়িয়ে যায় দীন রক্ষায় সুদৃঢ় প্রাচীর হয়ে এবং ছড়িয়ে দেয় সর্বত্র ইসলামের শাশ্বত আহ্বন। আর এভাবেই মুসলিম উম্মাহ ফিরে পায় তার ইজ্জত-মার্যাদা-প্রতিষ্ঠা-সম্মান। খেতাবত, তাই, সুমহান এক সুমহান দায়িত্ব, সম্মান ও মর্যাদার ঔজ্জ্বল্যে প্রদীপ্ত এক আমল।

Posted in Uncategorized | Leave a comment